বাংলাদেশের টেলিকম খাতে বিদেশী বিনিয়োগ কমছেই
দেশের টেলিকম খাতে বিদেশী বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে কমছে। ২০১৪ সালে এ খাতে বিদেশীরা ১ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। আগের বছর যা ছিল ২ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। এ হিসাবে এক বছরে বিনিয়োগ কমেছে ৭৮০ কোটি টাকা। আর দুই বছরের ব্যবধানে বিনিয়োগ কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। জাতিসংঘের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য উন্নয়ন সংস্থা আঙ্কটাডের রিপোর্টে এ তথ্য পাওয়া গেছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, থ্রিজির লাইসেন্স পাওয়ার পর বিনিয়োগ বাড়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ অন্যান্য কারণে সার্বিকভাবে বিনিয়োগ কমছে। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধিতে তা নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। 

আঙ্কটাডের তথ্য অনুসারে ২০১৪ সালে এ খাতে বিদেশী বিনিয়োগ এসেছে ২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় এর পরিমাণ ১ হাজার ৮১৪ কোটি টাকা। আগের বছর অর্থাৎ ২০১৩ সালে বিদেশী বিনিয়োগ ছিল ৩২ কোটি ৪৩ লাখ ডলার। এ হিসাবে এক বছরে কমেছে প্রায় ১০ কোটি ডলার। এ ছাড়া ২০১২ সালে বিনিয়োগ ছিল ৩৭ কোটি ৪৯ লাখ ডলার। অর্থাৎ পরপর দুই বছরই বিদেশী বিনিয়োগ কমেছে। আলোচ্য সময়ে টেলিকম খাতে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করেছে নরওয়ে। ২০১৪ সালে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ১০ কোটি ৩৪ লাখ ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় যা ৮২৫ কোটি টাকা। এর পরে রয়েছে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ। ২০১৪ সালে দেশটি মোট বিনিয়োগ ৫ কোটি ১৮ লাখ ডলার এবং ততৃীয় অবস্থানে সিঙ্গাপুরের বিনিয়োগ ৫ কোটি ১২ লাখ ডলার।

অন্যদিকে আঙ্কটাডের তথ্য অনুসারে ২০১৪ সালে সার্বিকভাবে দেশীয় বিদেশী বিনিয়োগ কমেছে ৭ কোটি ডলার। কিন্তু শুধু টেলিকম খাতে বিনিয়োগ কমেছে ১০ কোটি ডলার। এ সময়ে দেশে মোট বিদেশী বিনিয়োগ এসেছে ১৫২ কোটি ডলার। আগে যা ছিল ১৫৯ কোটি ডলার। অর্থাৎ টেলিকম খাত বাদ দিলে ২০১৪ সালে দেশে সামগ্রিকভাবে বিদেশী বিনিয়োগ বেড়েছে ৩ কোটি ডলার।

জানা গেছে, দেশে মোবাইল কোম্পানিগুলোর বিকাশ হচ্ছে। বিটিআরসির সর্বশেষ তথ্য অনুসারে বর্তমানে বাংলাদেশে মোবাইল ফোনের গ্রাহক ১২ কোটি ২৬ লাখ ৫৭ হাজার। এর মধ্যে ২৫ শতাংশ মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। আর মোট গ্রাহকের মধ্যে গ্রামীণফোনের ৫ কোটি ১৬ লাখ, বাংলালিংক ৩ কোটি ১৫ লাখ, রবি ২ কোটি ৬৪ লাখ, এয়ারটেল ৭৯ লাখ, টেলিটক ৩৯ লাখ এবং সিটিসেলের ১২ লাখ গ্রাহক রয়েছে। কিন্তু এ সময়ে উদ্যোক্তা দেশগুলো নতুন করে বিনিয়োগ না করলে কোম্পানিগুলোর সেবা বাড়বে না।

১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক টেলিকম ফোরামের সদস্য পদ পেয়েছে। আর ১৯৯৮ সালে দেশে মোবাইল ফোনের যাত্রা শুরু। এরপর ২০০২ সালে বিটিআরসি গঠনের পর তাতে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়। বর্তমানে এ খাতে ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ রয়েছে। মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ২ দশমিক ৩০ শতাংশ এবং রাজস্ব আয়ে ১০ শতাংশ অবদান রাখছে এ খাত। এ ছাড়া ৬টি মোবাইল কোম্পানির মধ্যে সিটিসেল ছাড়া সবগুলো থ্রিজি ব্যবহার করছে। আর বিটিআরসি বলছে, ফোরজি এবং এলটিই (লং টার্ম ইভোলুশন) দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু কমে আসছে উদ্যোক্তা দেশগুলোর বিনিয়োগ। 

নিউজটি লিখেছেনঃ মনির হোসেন,যুগান্তর 
 
Top